আইপ্যাড কিনবেন, কোনটি?

আইপ্যাডআইপ্যাড কেনার কথা ভাবছেন? বাজারে চারটি সংস্করণের আইপ্যাডের মধ্য থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারেন। আপনার জন্য যুত্সই আইপ্যাড কোনটি হবে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট। বাজারে থাকা আইপ্যাডের মধ্যে দুটি হচ্ছে আইপ্যাডের মিনি সংস্করণ ও দুটি ৯.৭ ইঞ্চি মাপের সংস্করণ। আইপ্যাডের প্রতিটি সংস্করণে থাকা ফিচারে বেশ কিছু মিল ও অমিল রয়েছে যেগুলো জানলে আইপ্যাড কেনার সময় আপনার সুবিধা হতে পারে। লাইটনিং কানেক্টর ও এলটিই সমর্থনের বিষয়ে আইপ্যাডের মিল রয়েছে। এ ছাড়াও আইপ্যাডের সংস্করণগুলোর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকে। কিন্তু আইপ্যাডের সংস্করণগুলোতে রেজুলেশন, ডিসপ্লে ও প্রসেসরে অমিল পাবেন। আইপ্যাড মিনিতে ব্যবহূত ডিসপ্লে রেজুলেশন কম এবং ব্যবহূত হয়েছে এ৫ প্রসেসর। অন্যদিকে, রেটিনা মিনি কিংবা বড় মাপের আইপ্যাডের মধ্যে প্রসেসর ও ডিসপ্লেতে যথেষ্ট মিল রয়েছে।
আইপ্যাড মিনি (নন-রেটিনা)আইপ্যাড মিনি (নন-রেটিনা): ২৯৯ মার্কিন ডলার
অ্যাপলের বাজেটবান্ধব আইপ্যাড হচ্ছে দুই বছর আগে বাজারে আসা আইপ্যাড মিনির নন রেটিনা সংস্করণ। এর দাম ২৯৯ মার্কিন ডলার। ২০১২ সালে এই আইপ্যাড বাজারে এসেছিল। আইপ্যাডটিতে রয়েছে এ৫ প্রসেসর। পরে আইপ্যাডের পরবর্তী সংস্করণে এ৬এক্স ও এ৭ প্রসেসর ব্যবহার করেছে অ্যাপল। বাজারে কেবল ১৬ গিগাবাইট মডেলের আইপ্যাড মিনি পাওয়া যায়। আইপ্যাডটি যথেষ্ট হালকা-পাতলা। বই পড়া ও ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য এই সংস্করণটি আপনার পছন্দ হতে পারে। নন রেটিনা ডিসপ্লের আইপ্যাড মিনির এই সংস্করণটিকে আইফোন৪এসের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কম খরচের আইপ্যাড কিনতে চাইলে ও ই-রিডারের মতো ব্যবহার করতে চাইলে এই সংস্করণটি কেনা যেতে পারে। তবে আরও উন্নত সুবিধা চাইলে এই সংস্করণটি কেনার চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত।
রেটিনা আইপ্যাডআইপ্যাড রেটিনা (চতুর্থ প্রজন্ম): ৩৯৯ মার্কিন ডলার
আইপ্যাড ২ কে অ্যাপল স্টোর থেকে সরিয়ে ২০১২ সালে শেষদিকে বাজারে আসে চতুর্থ প্রজন্মের আইপ্যাড। রেটিনা ডিসপ্লে সম্পন্ন ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ ক্ষমতার এই আইপ্যাডটির এলটিই সংস্করণও ৫২৯ মার্কিন ডলারে কেনা যায়।
অ্যাপলের সর্বশেষ বাজারে আসা আইপ্যাড এয়ারের মতো এই সংস্করণটিতে রেটিনা ডিসপ্লে ব্যবহূত হয়েছে। তবে এই সংস্করণটি কিনলে এয়ার সংস্করণটির তুলনায় ১০০ মার্কিন ডলার খরচ কম হবে। ২০৪৮ বাই ১৫৩৬ রেজুলেশনের আইপ্যাডটির ডিসপ্লে আইপ্যাড এয়ারের সমান এবং প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল ঘনত্বও ২৬৪। চারটি সংস্করণের আইপ্যাডের মধ্যে এটির ওজন সবচেয়ে বেশি। ১.৪৪ পাউন্ড। এই আইপ্যাডে ব্যবহূত হয়েছে এ৬এক্স প্রসেসর যা এ৭ প্রসেসরের চেয়ে পারফরমেন্সে পিছিয়ে। তবে আইফোন৫ এ ব্যবহূত এ৬ প্রসেসরের চেয়ে এগিয়ে। গেমস কিংবা ভিডিও দেখার জন্য রেটিনা সংস্করণের এই আইপ্যাডটি ভালো হতে পারে। এই আইপ্যাডটি ক্যামেরা মানও ভালো। অনেকটাই আইপ্যাড এয়ারের মতো। কিছুটা অর্থ সাশ্রয় আর ভালো মানের ডিসপ্লের কথা ভাবলে এই আইপ্যাডটি কেনা যেতে পারে। তবে যাঁরা একটু হালকা-পাতলা ট্যাবলেট চান তাঁদের এই সংস্করণটির কথা না ভাবাই ভালো।
রেটিনা আইপ্যাড মিনিআইপ্যাড মিনি (রেটিনা): ৩৯৯ মার্কিন ডলার

১৬ গিগাবাইট তথ্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চতুর্থ প্রজন্মের আইপ্যাডের সমান দামের রেটিনা মিনি কিনতে পারেন। ১৬ গিগাবাইট ছাড়াও ৩২, ৬৪ এমনকি ১২৮ গিগাবাইট তথ্য ধারণ ক্ষমতার রেটিনা মিনি সংস্করণও বাজারে রয়েছে।
আইপ্যাড মিনির রেটিনা সংস্করণটিতে দ্রুতগতির এ৭ প্রসেসর ব্যবহূত হয়েছে। একে আইফোন ৫এসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পরে। ৭.৯ ইঞ্চি পর্দার আইপ্যাড মিনির নতুন সংস্করণের পর্দায় ২,০৪৮ বাই ১,৫৩৬ পিক্সেল ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন আইপ্যাড মিনির প্রতি ইঞ্চিতে রয়েছে ৩২৬ পিক্সেল। গ্রাফিকসের দিক থেকে এই আইপ্যাডটি ভালো। নন-রেটিনা আইপ্যাড মিনির চেয়ে এটি ওজনে সামান্য ভারি। চতুর্থ প্রজন্মের আইপ্যাড কিংবা আইপ্যাড এয়ারের স্ক্রিনের তুলনায় অবশ্য রেটিনা মিনি কিছুটা পিছিয়ে আছে বলা যায়। তবে এম৭ মোশন কো-প্রসেসর, একই রকম ক্যামেরা মান, ৬৪ বিট প্রসেসিং সক্ষমতা, উন্নত ওয়াই-ফাই, এলটিই অ্যান্টেনা সবই এয়ারের মতো। তাই একে আইপ্যাড এয়ারের কম দামি সংস্করণও বলা চলে। অন্যান্য সংস্করণের আইপ্যাডের প্রায় সব ফিচারই এতে রয়েছে এবং দামেও এয়ারের চেয়ে কম বলে এটি আপনার পছন্দ হতে পারে। তবে যাঁরা বেশি ভিডিও দেখেন এবং আইপ্যাডকে ল্যাপটপের বিকল্প ভাবেন তাঁদের আইপ্যাড রেটিনা মিনির কথা না ভাবাই ভালো।

আইপ্যাড এয়ারআইপ্যাড এয়ার: ৪৯৯ মার্কিন ডলার
অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ আইপ্যাড হচ্ছে এই এয়ার সংস্করণটি। অ্যাপল কর্তৃপক্ষ তাদের আইপ্যাড এয়ারকে বলে হালকা, পাতলা আর দ্রুতগতির। আগের সংস্করণের আইপ্যাডের চেয়ে আইপ্যাড এয়ার ২০ শতাংশ পাতলা ও ২৮ শতাংশ হালকা। ৯.৭ ইঞ্চি মাপের আইপ্যাড এয়ারের পুরুত্ব ৭.৫ মিলিমিটার এবং ওজন ৪৬৯ গ্রাম। এই ট্যাবলেটে আইফোন৫এস প্রসেসরের অনুরূপ এ৭ চিপ ব্যবহূত হয়েছে। ১৬ গিগাবাইট তথ্য ধারণ সুবিধার শুধু ওয়াই-ফাই মডেলটির দাম হবে ৪৯৯ মার্কিন ডলার এবং ৪জি সুবিধার ১৬ গিগাবাইট মডেলটির দাম ৬২৯ মার্কিন ডলার। যাঁরা আইপ্যাড ব্যবহারে অ্যাপলের সর্বশেষ প্রযুক্তির পুরো অভিজ্ঞতা নিতে চান তাঁরা আইপ্যাড এয়ার কিনতে পারেন।

Previous
Next Post »

পোস্ট সম্পর্কিত সমস্যার জন্য মন্তব্য দিন।ডাউনলোড লিঙ্ক এ সমস্যা জন্য ইনবক্স করুন Aimzworld007
ConversionConversion EmoticonEmoticon

Thanks for your comment